শনিবার | ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল | ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

করোনায় থেমে নেই প্রবাসীদের মানবতা

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকার সর্বোচ্চ সর্তক ব্যবস্থা নিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি সারাদেশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরেও বের হচ্ছে না কেউ। এরই মধ্যে দেশের সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া একসঙ্গে দুই জনের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ফলে কার্যত পুরোদেশ এখন লকডাউনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সবচেয়ে বিপদে পড়ছে দিনমজুরেরা। বেশ কয়েকদিন ধরে দেশ স্থবির হয়ে যাওয়ায় কাজ পাচ্ছেন না তারা।

কেউ আবার জীবিকার তাগিদে বের হলেও আয় রোজগার নেই। এমন অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়ছে অনেকেই। সরকার এসব দিনমজুরদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলেও সকলের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে৷ যারা দিনে আনে, দিনে খায়৷ তার উপর রয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা৷ করোনায় শুধু তারাই নন, যারা চাকরিজীবী নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত সবাই সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

তবে আশার খবর হচ্ছে, দিন মজুরদের এই দুর্বিষহ দিনে সরকারের পাশাপাশি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে প্রবাসী বিভিন্ন সংগঠন এবং বিত্তশালীরা। দেশের এই ক্রান্তিকালে ব্রিটেন, আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশের সংগঠন ও বিত্তশালীরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাদের নিজ নিজ এলাকায় সাহায্য ও সহযোগিতা করতে। প্রতিদিন এদের মধ্যে অনেকের সাথে কথা হয়, অনেকের সাথে পরিচয় না থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম।

খাদ্যদ্রব্য বিতরণের সময় অনেকে ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশের দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব এবং এসব দৃশ্য ফেসবুকে দেওয়ার মানে এই না যে মানুষকে দেখানোর জন্য এই কাজ করা হচ্ছে। মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য এই ফেসবুক লাইভে আসা’। যে টি আমি নিজেও সমর্থন করি। কারণ এসব দেখে অনেকেই উৎসাহিত হবে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। তবে দান গ্রহণকারীদের ছবি/ভিডিও প্রকাশ করা মোটেও উচিত নয়। এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা খুবই জরুরি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব ছবি অনেকেই শেয়ার করে অভিমত জানাচ্ছে, সরকারের পাশাপাশি যদি সংগঠন এবং সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিরা সবাই এভাবে এই সময় নিম্ন আয়ের দিন মজুরদের পাশে গিয়ে দাঁড়ায় তাহলে দ্রুতই বাংলাদেশে করোনাভাইরাস জয় করা সম্ভব হবে।

আনুমানিক ১ কোটি প্রবাসী নিজে কিংবা কয়েকজন একত্রে মিলে সামর্থ্য অনুযায়ী এসব দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় তবে এই দুঃসময়ে করোনায় কেহ মারা গেলেও না খেয়ে কেহ মরবে না। এটা আমার বিশ্বাস। ব্রিটেনে আমাদের উপজেলার সংগঠন গোলাপগঞ্জ উপজেলা সোশ্যাল ট্রাস্ট সহ অসংখ্য সংগঠন ইতিমধ্যে তাদের নিজ নিজ এলাকায় অসহায়দের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মানুষের বিপদের সময় পাশে থেকে সহযোগিতা করাই মানুষের ধর্ম হওয়া উচিত।

একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে যদি একটি প্রাণ বাঁচে, একজন মানুষ বাঁচার স্বপ্ন দেখে—তাতেই হয়তো জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। একজন মানুষ, মানুষের জন্যই। বিপদে-আপদে, সমস্যা-সংকটে ছুটে এসে সাহায্য করবে—এমন প্রত্যাশা মানুষ মাত্রই করতে পারে। মানব জীবনের সম্পূর্ণতা আর তৃপ্তির জন্য সমাজের অসহায়-পীড়িতদের জন্য কিছু করা দরকার। তাই আসুন, প্রবাস থেকে আপনি, আমি এভাবেই এগিয়ে আসতে পারি। দাঁড়াতে পারি এসব বিপদগ্রস্তদের মানুষের পাশে।

 

 

বিডি রয়টার্স/

Translate »