মঙ্গলবার | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল | ২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

করোনায় নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি

নারীপাতা ডেস্ক : মহামারি করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবে কারনে থমকে গেছে  সারা বিশ্ব। প্রতিদিন আক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুর মিছিলও। এ পরিস্থিতিতে বাল্য বিয়ে, অল্প বয়সে গর্ভধারণ, গর্ভপাতসহ বিভিন্ন প্রকার ঘটনা ঘটছে প্রজনন ¯স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী ও কিশোরীর প্রজনন স্বাস্থ্য।

এদিকে গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব ও পরবর্তী সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে নারী ও কিশোরীরা।করোনা প্রার্দুভাবের আগে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরসহ বিভিন্ন সংস্থা নানা কর্মসূচি গ্রহণ করলেও বর্তমানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনেকটাই স্থগিত হয়ে পড়েছে। এমনকি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যাতায়াতসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতা পার হয়ে নারীরা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে নারী ও কিশোরীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

বৈশ্বিক পরিসংখ্যান বলছে, সংঘাত, দুর্যোগ কিংবা মহামারির সময় বাল্যবিয়ে বাড়ে। বাংলাদেশে ২০ শতাংশ মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, করোনার কারণে আরও ২০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে। বাল্যবিয়ের ঝুঁকি এসব পরিবারেই বেশি।

বিডিএইচএস’র এর ২০১৭-১৮ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৫২ শতাংশ নারী পরিবার পরিকল্পনার আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। ২০১৪ সালে পদ্ধতি ব্যবহারের হার ছিল ৫৪ শতাংশ, এক্ষেত্র জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার কমেছে। প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে ৪ জন নারী প্রথম বছর পদ্ধতি ব্যবহারের পর পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েন।

করোনাভাইরাসের কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে আগামী দিনগলোতে শিশু ও মাতৃমৃত্যু বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এই দেশগুলোতে পরিবার পরিকল্পনা সেবার প্রায় ১০ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার কমবে এবং অনিরাপদ গর্ভপাত বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

পরিবার পরিকল্পনার পলিসিতে এ বিষয়ে কৌশলগত পরিবর্তন করতে না পারলে টিএফআর ২.৩ থেকে ২.০০-এ আনার পরিকল্পনা, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৬২ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ৭৫ শতাংশ উন্নীত করার পরিকল্পনা, অপূরণীয় চাহিদা ১২ শতাংশ থেকে নামিয়ে আনা এবং বাল্যবিয়ের হার কমিয়ে আনার পরিকল্পনা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। উপরন্তু করোনাকালীন জনসংখ্যা বৃদ্ধির যে চাপ তৈরি হবে তা সামলানো অনেক কঠিন হয়ে পড়বে, যা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক ভারাসাম্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। তাই পরিবার পরিকল্পনা সেবা খাতকে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা খাতের মতো সমভাবে বিবেচনা করে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সময়ের মাধ্যমে এই সেবাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

Translate »