শুক্রবার | ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কালবৈশাখীর তান্ডবে আম চাষিদের মাথায় হাত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : আমের জন্য যে জেলার পরিচিতি সবার কাছে তা হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জকে কেউ বলেন আমের জেলা, কারো কাছে মনে হয় এটা আমের রাজধানী।

সেই আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সবখানেই গাছের মুকুল থেকে ইতোমধ্যে বেরিয়ে পড়েছে আমের গুটি। গাছে গাছে আমের গুটি দেখা গেলেও দীর্ঘ ৫ মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় এবার আমের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছে আম চাষী ও বাগান মালিকরা।

তারপরও বিপুল পরিমাণ আম আসায় আশার আলো দেখছেন বাগান মালিকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে প্রায় ৯৮ ভাগ গাছেই মুকুল এসেছে। আর জেলার ৫ উপজেলায় আমবাগান রয়েছে ৩৩ হাজার ৩৫ হেক্টর এবং গাছের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ।

জানা গেছে, জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল হওয়ায় এই আমকে ঘিরেই এ অঞ্চলের মানুষ জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের মুখে যেন হাসি নেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর, নয়াগোলা, কোর্ট এলাকা, শিবগঞ্জ, বিরামপুর মরদানাসহ বেশ কয়েকটি বাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছগুলোতে এখন আম শোভা পাচ্ছে। কোনটি আকারে ছোট, আবার কোনটি একটু বড়। বৃষ্টি না হওয়ায় আমের গুটি স্বাভাবিক কারণে বড় হচ্ছে না। এতে করে আমচাষীসহ বাগান মালিকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

শাহাজাহান আলী নামে এক আম ব্যবসায়ী বাংলাদেশ রয়টার্সকে জানান, এবছর আমের গুটি ভালই এসেছে, তবে গত বছরের অক্টোবর মাসের ২য় সপ্তাহ থেকে অদ্যাবধি বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

অপর আমবাগান মালিক মতিউর রহমান জানান, এবছর পর্যাপ্ত পরিমাণ মুকুল এসেছিল। আর সময়মত গুটি আসায় আশার সঞ্চার জেগেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় বেশ চিন্তার মধ্যে পড়তে হয়েছে। তবে সামর্থ্য অনুযায়ী আমগাছে পানি দিয়ে স্প্রে এবং গাছের গোড়ায় পানি দেয়া হচ্ছে।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, এবার গাছে গাছে ভালো মুকুল আসার পাশাপাশি গুটিও সময়মত এসেছে। তবে গত ৯ অক্টোবর থেকে এ জেলায় এখন পর্যন্ত বৃষ্টি হয়নি। এ মুুহুর্তে বৃষ্টি হলে ফলন ভাল হবে, না হলে আম উৎপাদনে ব্যাহত হতে পারে। যদিও খরচ বেশী পড়বে, তারপরও আমচাষীদের গাছে পানি দেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জমির উদ্দিন জানান, জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবে এখন পর্যন্ত এ জেলায় বৃষ্টি নেই। পানির জলাধার থেকে সেচের মাধ্যমে গাছ স্প্রে করলে আমের গুটি রক্ষা পাবে। খরার কারণে গাছগুলোতে পানি শুন্য হয়ে পড়ছে, সেহেতু গাছের গোড়া একটু গর্ত করে পানি দিলে গাছগুলো পানি শুন্যতা থেকে রক্ষা পাবে।

বিডি রয়টার্স/এ.সি

Translate »