এ মাসে শেষ হচ্ছে  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মেয়াদ

এ মাসে শেষ হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মেয়াদ bd royters

বেনাপোল : যশোরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ লাখ ১০ হাজার সুবিধাভোগীর মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এ মাসেই স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এই হতাশা। সুবিধাভোগীরা প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। আর প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা বলছেন, প্রকল্পের মেয়াদ যদি বৃদ্ধি করা না হয় তাহলে অনেক শিশু শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে। একইসাথে পুষ্টিহীনতায় পড়বে বহু শিশু।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, যশোরের তিনটি উপজেলায় স্কুল ফিডিং ও মিড ডে মিল প্রকল্প চালু হয়। এগুলো হচ্ছে, সদর, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা। এই তিনটি উপজেলার মোট পাঁচশ’ ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন বিস্কুট দেয়া হয় এসব স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীদের।

সদর উপজেলায় ২শ’ ৫৬ টি স্কুলের ৫৭ হাজার ৫শ’ ৪৮ জন শিশু শিক্ষার্থী, ঝিকরগাছার ১শ’৩৩ টি স্কুলের ২৮ হাজার ২শ’৯৩ জন ও চৌগাছার ১শ’৩৯ টি স্কুলের ২৮ হাজার ১শ’ শিশু এই সুবিধা পাচ্ছে। একই সাথে ঝিকরগাছার ২০টি স্কুলের চার হাজার ২শ’ ৫৪ জন শিশুর জন্যে চালু ছিল মিড ডে মিল। তাদেরকে পুষ্টিসম্পন্ন খিঁচুড়ি খাওয়ানো হতো। করোনার কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, বন্ধ হয়ে যায় স্কুল ফিডিং ও মিড ডে মিল কার্যক্রম।

এ কারণে বাড়িতে থাকা দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পুষ্টিহীনতায় পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। সেটি বিবেচনা করে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু করে সরকার। তবে, স্কুল বন্ধ থাকায় মিড ডে মিল প্রকল্প বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্কুল খুললে মিড ডে মিল প্রকল্প চালু করা হবে। করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে পুষ্টিমান সম্পন্ন বিস্কুট। সদর ও চৌগাছা উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আরআরএফ। ঝিকরগাছার দায়িত্বে রয়েছে উত্তরণ নামে আরেকটি এনজিও।

আরআরএফের প্রকল্প সমন্বয়কারী আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, ১ম ধাপে ২০২০ সালের এপ্রিল-মে মাসে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৩১ প্যাকেট, ২য় ধাপে জুন-জুলাই মাসে ৪০ প্যাকেট, আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ৪০ প্যাকেট এবং ৪র্থ ধাপে অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ৫৪ প্যাকেট করে বিস্কুট শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এছাড়া, ৫ম ধাপে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২৫ প্যাকেট, ৬ষ্ঠ ধাপে ফেব্রæয়ারি মাসে ২১ প্যাকেট, ৭ম ধাপে মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৩০ প্যাকেট করে বিস্কুট বিতরণ করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দু’টি।

সর্বশেষ অষ্টম ধাপে মে ও জুন মাসের জন্যে ২৭ প্যাকেট করে বিস্কুট বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ অন্যান্য অফিসার এবং স্কুল শিক্ষকদের সহযোতিায় এ প্রকল্পের কাজ চলছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উত্তরণের স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মনিটরিং এন্ড রিপোর্টিং অফিসার নিজামুল ইসলাম বলেন, তারাও বাড়ি বাড়ি বিস্কুট পৌঁছে দিচ্ছেন। তবে, বন্ধ রয়েছে মিড ডে মিল কার্যক্রম। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মিড ডে মিল প্রকল্প বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্কুল খুললে এই প্রকল্প চালু হবে বলে জানান নিজামুল।

বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা জানান, করোনার কারণে অনেক মানুষ এক প্রকার বেকার হয়ে পড়েছেন। এ কারণে দরিদ্র মানুষ রয়েছেন অসহায় অবস্থার মধ্যে। এ কারণে তাদের সন্তানদের পুষ্টির যোগান দেয়া তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। স্কুল ফিডিং প্রকল্প চালু থাকায় দরিদ্র পরিবারের শিশুরা পুষ্টিহীনতার হাত থেকে রক্ষা পাবে বলে মনে করেন শিক্ষকরা। এক কথায় স্কুল ফিডিং প্রকল্প প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে। রোধ করেছে ঝরে পড়া।

এই আশা জাগানিয়া প্রকল্প নিয়ে ইতিমধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে যশোরের ১ লাখ ১০ হাজার অভিভাবকের মধ্যে। কারণ সংশ্লিষ্টরা তাদেরকে জানিয়েছেন, চলতি জুনেই শেষ হচ্ছে স্কুল ফিডিং প্রকল্প। শিক্ষকরা বলছেন, স্কুল ফিডিং প্রকল্প বন্ধ হলে বহু শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে। একইসাথে পুষ্টিহীনতায় পড়বে হাজার হাজার শিশু শিক্ষার্থী। শিক্ষক ও সুবিধাভোগীরা যেকোনো মূল্যে স্কুল ফিডিং প্রকল্প চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন। চালু রাখার দাবি এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদেরও।

আরআরএফের প্রকল্প সমন্বয়কারী আব্দুল আজিজ বলেন, বর্তমানে স্কুল বন্ধ থাকলেও প্রকল্পের কার্যক্রম চালু থাকায় ছাত্রছাত্রীরা পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়নি। শিশুদের দৈনিক পুষ্টির চাহিদা মেটানো হচ্ছে। প্রকল্প এলাকার ছাত্রছাত্রী নবউদ্যোমে সুস্থভাবে শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে এ প্রকল্প সহায়তা করবে। যদি এ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি না করা হয় তাহলে পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে যশোর সদর ও চৌগাছা উপজেলার ৮৩ হাজার ৩৮ জনসহ জেলার ১ লাখ ১৪ হাজার ছাত্রছাত্রী।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষাকে মানসম্মত করার লক্ষ্যে সরকারের এ প্রকল্প সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। কোভিড ১৯ এর মধ্যে স্কুল ফিডিং চলমান থাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

 

বিডি রয়টার্স/এসএস