চুয়াডাঙ্গায় করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চুপ

চুয়াডাঙ্গায় করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চুপ

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় করোনা শনাক্তের বেড়েই চলেছে। ৪ জুন পর্যন্ত শনাক্তের হার ৭ শতাংশ থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় এই হার বেড়ে ৪৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা, দর্শনা সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের মানুষের যাতায়াতসহ নানা কারণে সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মে মাসে করোনা শনাক্তের গড় হার ২০ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও জুন মাসে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। বিশেষ করে ৫ জুনের পর থেকে করোনা শনাক্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার পরও মানুষের মধ্যে
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিয়ে অবজ্ঞা-অবহেলা ও সচেতনতার অভাবে করোনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

সিভিল সার্জন এ এস এম মারুফ হাসান করোনা শনাক্তের এই হারকে স্বাভাবিক বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, মাঝে মাঝে পরীক্ষা করোনা শনাক্তের হার কিছুটা বেশি হয়। জেলায় ১৯৫ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল শুরু থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ৩০ জন চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্স এবং পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। অক্সিজেনেরও কোনো সংকট নেই। আইসিইউ চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’
জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্র জানায়, ৪ জুন পর্যন্ত করোনা শনাক্তের হার অনেকটাই সহনীয় ছিল। এদিন ৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়। অর্থাৎ শনাক্তের হার ছিল ১৪ শতাংশ। অথচ এর পরদিন থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, ৫ জুন ১১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪ জনের শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ৬ জুন ২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত ৮ জন। শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ; ৮ জুন ২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত ৮ জন, শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং ৯ জুন ৮০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিন করোনা শনাক্তের হার ৪৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনার শুরু থেকে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত জেলায় ১০ হাজার ৩৮০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ১৫৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ সময়ে মারা গেছেন ৭০ জন।

সাধারণ মানুষ বলছে , ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ১৭ মে থেকে দর্শনা স্থলবন্দর হয়ে ফিরিয়ে নেওয়ায় করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেছে।

জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, মানুষকে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিডি রয়টার্স/এ.সি