শনিবার | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পুরুষশুন্য হয়ে পড়েছে এলাকা, নতুন আরো ৪ মামলা

ফরিদপুর: ফরিদপুরের সালথায় লকডাউন না মানাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার পর অব্যাহত জোরদার পুলিশি অভিযানের কারনে উপজেলার আশেপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রামগুলো পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গেলে ওই সব এলাকার বাড়ি-ঘর গুলোতে নারী আর শিশু ছাড়া কোন সদস্য দেখতে পাওয়া যায়নি। এসময় বাড়ির নারী ও শিশুদের চোখে মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাইরের মানুষ দেখলেই তারা ভয়ে দৌড়ে সরে যাচ্ছেন।

গত ৫ তারিখের ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৫টি। এই সব মামলায় আসামী করা হয়েছে ২৬১ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ১৬ হাজার ৮০০ জনকে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আটক করা হয়েছে মোট ২৭জনকে। নতুন যে চারটি মামলা হয়েছে তার একটি করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মাতুব্বর। এ মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আরেকটি মামলা করেছেন সালথা উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মাদ হা‌সিব সরকা‌রের গাড়িচালক মো. হাশমত আলী। এই মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ এবং ৩ থেকে ৪ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অপর মামলাটি করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী সমীর বিশ্বাস। এ মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৩ থেকে ৪ হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

আরেকটি মামলাটি করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনারের(ভূমি) গাড়িচালক মো. সাগর সিকদার। এ মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে তিন থেকে চার হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এর আগে বুধবার সালথা থানার এস আই (উপ পরিদর্শক) মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং প্রায় চার হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেন।

ফুকরা বাজার এলাকার করিমন বেগম জানান, সব সময় ভয়ে রয়েছি। পুলিশ দেখতে দেখতে সারাদিন কেটে যাচ্ছে। বাড়িতে কোন পুরুষ সদস্য নেই। সবাই পালিয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

নূরজাহান নামে একজন জানান, ওই দিন অন্য এলাকা থেকে লোকজন এসে হামলা করছে। আমাদের গ্রামের কোন লোক ছিলো না। তিনি বলেন শুনেছি ফুকরা বাজারে এসিল্যান্ডের সাথে থাকা সদস্যদের সাথে বাজারের লোকজনের গুন্ডগোলকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে।

ঘট্রি এলাকার মনির নামে একজন জানান, বালিয়া গট্রি এলাকা ও উপজেলা কেন্দ্রীক এলাকার বাড়ি গুলোতে কোন পুরুস সদস্য নেই। ঘটনার পর থেকে ওই সব এলাকার লোকজন পলাতক অবস্থায় রয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে তিনি আশা করেন কোন নিরীহ লোক যেন হয়রানীর স্বীকার না হন।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আলিমুজ্জামান বলেন, এঘটনার পর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মামলার আসামীদের ধরতে পুলিশ দিনরাত জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। বেশির ভাগ এলাকায় পুলিশি অভিযানের কারনে পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে এলাকা গুলো। তারপরও পুলিশ তাদের ধরতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করছে। তিনি বলেন এই ঘটনায় যেই জরিত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা পুলিশ গ্রহন করবে। এই ব্যাপারে কোন রকমের ছাড় দেয়া হবে না। এরই মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় গুলিবৃদ্ধ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য লকডাউন না মানাকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকালে সালথার ফুকরা বাজারে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এসিল্যান্ডের সাথে থাকা সদস্যদের সাথে স্থানীয়দের। এর পরই বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সালথা উপজেলা পরিষদ, এসি ল্যান্ড অফিস ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটায়।

 

বিডি রয়টার্স/এসএস

Translate »