মঙ্গলবার | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল | ২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

ভিডিও ভাইরালের আগে ৩২ দিন পুলিশ কী করেছে? হাইকোর্ট

ঢাকা : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সব মাধ্যম থেকে সরিয়ে নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিটিআরসিকে বলা হয়েছে, একটি ভিডিওর কপি সংরক্ষণে রাখতে।

একই সঙ্গে ভিকটিমের পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে স্থানীয় পুলিশ সুপারকে (এসপি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তের জন্য সেখানকার স্থানীয় সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল, সমাজসেবা অফিসারসহ তিনজনের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারকে (এডিসি) এ বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এ সংক্রান্ত বিষয়ে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ (ভার্চুয়াল) এই আদেশ দেন।

সোমবার আদালতে বিষয়টি নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও জেড আই খান পান্না। ভার্চুয়ালে সংযুক্ত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন।

এ সময় আদালত বলেন, বর্তমানে দেশে যেসব ঘটনাগুলো ঘটছে তা নিয়ে আদালতের দায়বদ্ধতা রয়েছে। নোয়াখালীর এতবড় একটি ঘটনা যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে না আসত তাহলে দেশের মানুষ এটা সম্পর্কে জানতে পারতেন না এবং এত বড় একটি অপরাধ চাপাই থেকে যেত। আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার ৩২ দিন পর কেন এই ঘটনাটি মানুষের সামনে আসলো। তাহলে কি এখানে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনী বা  ক্ষমতাসীন কেউ কিংবা ক্ষমতাধর কোন ব্যক্তির প্রভাব ছিল।

স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, নোয়াখালীর ডিসি, বেগমগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এবং বেগমগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে এই রুল ইস্যু করেছে হাইকোর্ট। রুলে বলা হয়েছে ওসি বেগমগঞ্জের কোন ব্যর্থতা থাকলে কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না। এ ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষেরা জড়িত কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণে আরো বলেছে, এ ধরনের ভিডিও যদি সংবাদমাধ্যমগুলো প্রকাশ হয় সে  ত্রে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক বিশ্বে নষ্ট হবে।

শুনানিতে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্বরত আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আদালত। আদালত বলেছেন, ‘৩২ দিন পর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে- এর আগে পুলিশ কী করেছে?’ অন্যদিকে, কোনো মানবাধিকার সংগঠন আদালতের শরণাপন্ন না হওয়ায় হতাশাও প্রকাশ করেছেন উচ্চ আদালত।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নূর ইসলাম মিয়ার বাড়িতে ওই গৃহবধূর বসতঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রাখেন স্থানীয় বাদল ও তার সহযোগীরা। এরপর গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তারা।

এ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তারা বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। নির্যাতনের ঘটনার ৩৩ দিন পর ৯ জনকে আসামি করে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন নির্যাতিতা গৃহবধূ (৩৫)।

 

বিডি রয়টার্স/এস.ডি.এম  

 

Translate »