শুক্রবার | ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার ফুলছড়িতে যৌতুক না পেয়ে লাইজু বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ওই গৃহবধূর বাবা তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

দুইদিন চিকিৎসা শেষে স্বামীসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে ফুলছড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা ওই গৃহবধু।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ লাইজু বেগম জানান, ১০ বছর আগে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ঘোলদহ গ্রামের জামির উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। সাংসারিক সুখের জন্য বিয়ের সময় লাইজু বেগমের বাবা আলম মিয়া নগদ ৫০ হাজার টাকা ও থালাবাসন,  স্বর্ণালংকার সহ এক লক্ষ টাকার অন্যান্য মালামাল প্রদান করেন।

বিয়ের কিছুদিন পর বাবা-মার ইন্দনে আনোয়ার হোসেন ব্যবসা করার অজুহাতে আবারও দুই লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করেন। লাইজুর বেগমের বাবা ঝালমুড়ি বিক্রেতা আলম মিয়ার পক্ষে তাদের দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় যৌতুকের জন্য প্রায়ই তার স্বামী আনোয়ার হোসেন, শ্বশুড়-শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন লাইজুকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত।

সম্প্রতি আবারও স্বামী আনোয়ার হোসেন, শ্বশুড়-শাশুড়িসহ পরিবারের লোকজন দাবীকৃত দুই লক্ষ টাকার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। লাইজুর বাবা দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় কয়েকদফায় লাইজু বেগমকে মারপিট করে স্বামী আনোয়ার হোসেন সহ তার পরিবারের লোকজন। গত ২০ মার্চ বেধরক লাইজু বেগমকে মারপিট করে ঘরে আটক করে রাখে।

খবর পেয়ে লাইজুর বাবা আলম মিয়া স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর বিষয়টি একটি মানবাধিকার সংস্থাকে জানালে আনোয়ার হোসেন আরও ক্ষিপ্ত হয়। গত ৫ এপ্রিল মানবাধিকার সংস্থাটির ডাকে আলম মিয়া মেয়েকে নিয়ে গাইবান্ধা যাওয়ার পথে স্থানীয় একাডেমী বাজারে আসলে সেখানে তাদের উপর হামলা চালায় আনোয়ার ও তার পরিবারের লোকজন।

এসময় স্থানীয়রা লাইজু বেগমকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে দুইদিন চিকিৎসা শেষে ওই হাসপাতালের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলের কর্মকর্তাদের শরণাপন্ন হলে প্রাথমিকভাবে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং করে।

পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে আইনী সহায়তা প্রদানের জন্য তারা গত ৮ এপ্রিল ফুলছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে বাদীর একটি লিখিত অভিযোগ সহ প্রেরণ করে।

লাইজুর বাবা আলম মিয়া বলেন, বিয়ের পর থেকে নানা কারণে আনোয়ার ও তার মা আমার মেয়ের উপর নির্যাতন চালায়। মেয়ের সুখের জন্য ৫০ হাজার টাকা ও এক লাখ টাকার মালামাল দিয়েছি। তারপরও তারা আমার মেয়ের উপর অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে। আমার মেয়েকে মেরে ফেলার জন্য ঘরের মধ্যে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি লাইজুকে নির্যাতন করি নাই। আমাকে হয়রানি করার জন্য এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে।

ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

বিডি রয়টার্স/এ.সি

 

Translate »