নীলফামারীতে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

নীলফামারী: অনুকুল আবহাওয়ায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে নীলফামারীতে। ধান চাষে খ্যাত জেলা সদও এখন সোনালী ধানের সমারোহ। ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, জেলার ছয় উপজেলায় ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছে কৃষক। এই মৌসুমে জেলায় ৮১ হাজার হেক্টও জমিতে বোরোর চাষ হয়েছে। এরমধ্যে আর অর্জিত হয়েছে ৮১ হাজার ৫৩৫ হেক্টর। এবার লক্ষ্য মাত্রার বোরোর বেশী (অর্জিত) চাষ হয়েছে ৫৩৫ হেক্টর জমিতে।

এর মধ্যে বি আর-১৪, উফসি ২৮, ২৯, ৩৩, ৭৪, ৮১ এই জাতের ৩৫ হাজার ৪৩০ হেক্টর, হাইব্রিট এসিআই-১, ২, ৩ জাতের ২৪ হাজার ৫৬০ হেক্টর, ও সিনজেনটা (হিরা) ১, ২, ৩,৪ জাতের ২১ হাজার ১০ হেক্টও জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা আশা করছেন, চলতি মাসের শেষের দিকে তাদের কাঙ্খিত সোনালী ধান কেটে ঘওে তুলতে পারবেন। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এ যাবত ১৫ হেক্টও জমির ধান কেটে ঘওে তুলেছে কৃষক।

এই ধান ঘরে তুলতে কৃষি বিভাগ নানা পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। দলীয় আলোচনা সভা সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও বøকে নিয়মিত ভাবে রোগ ও পোকার আক্রমন সংক্রান্ত পূর্বাভাস জরিপ করছে কৃষি কর্মকর্তারা। এই সব কাজ ছাড়া জেলায় ১৮৪ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাবর্ ক্ষনিক ভাবে কৃষকের জমিতে ফসলের তদারকি সহ নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

জেলার ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বোড়াগাড়ী গ্রামের ধান চাষি শফিকুল ইসলাম জানান, এবার ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। গত বোরো মৌসুমে ৫বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধান খুব ভাল ইহয়েছে। প্রতিটি শীষ ক্ষেতে সোনার মত জ্বলছে । বাজাওে ভাল দাম পেলে লাভবান হতে পারবো।

সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালীপাড়া গ্রামের খামাত পাড়ার ধান চাষি বাবলু চৌধুরি জানান, এবার ১২ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি। এর মধ্যে ব্রি-২৮ জাতের ধান আছে ৫ বিঘা। বাকী ৭ ব্রি-২৯জাতের। ভাল ফলনে, এবার স্বপ্ন দেখছি ভাল দামের। আর কিছু দিন পরেই সোনালী ধানের মৌঁ মৌঁগন্ধে ভওে উঠবে কৃষকের বাড়ীর উঠান।

একই এলাকার ধান চাষি আব্দুল মিয়া জানান, প্রতিবেশির নিকট দেড় বিঘা জমি বর্গা নিয়ে হাইব্রিট ধানের চাষ করছি। এই দোলায় (মাঠে) আমার মতো ধান কারো ফলে নাই। বিঘায় ২৫ মন ধানের আশা করছি। প্রতিদিন আসি আর ধান কাটার স্বপ্ন দেখি। ধানের বাজার ভাল পেলে বাকী দিনগুলি মোটা মুটি ভালই চলে যাবে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পোকা মাকড়ের উপদ্রপ ছাড়াই কৃষক ধান ঘওে তুলতে পারবে। উপসহাকারী কৃষি কর্মকর্তরা সার্বক্ষনিক কৃষকের মাঝে গিয়ে নানা পরামর্শ দিচ্ছে। এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তুলনা মুলক ভাবে উপসি-২৮, ২৯জাতের ধানের আবাদ এবার বেশী হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুবক্কও সিদ্দিক বলেন, গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ কমে উফশী জাতের ধানের আবাদ বেড়েছে। মোট উফশির আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৩০ হেক্টর। বেশী ফলন পাওয়ায় কৃষক এখন হাইব্রিড ও উফশী জাতের ধানের আবাদ বেশী বেশী করছে। আশাকরি, এস বধানে এবার বাম্পার ফলন হবে। বাজারে ধানের দাম ভাল পেলে কৃষকের স্বপ্ন পূরণ শত ভাগ পুরণ হবে।

 

বিডি রয়টার্স/এসএস