রবিবার | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল | ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল রফিক-উল হকের  মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশের প্রবীণ আইনজীবী রফিক-উল হকের  মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর)  শেখ হাসিনা বলেন, ব্যারিস্টার রফিকুল হক দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে নানা পরামর্শ দিতেন।

তিনি বলেন, ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে মিথ্যা মামলায় বন্দি করে। সেই দুঃসময়ে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে আইনি লড়াইয়ে এগিয়ে আসেন। শেখ হাসিনা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সে কথা স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টা র দিকে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে মারা যান সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল । তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুর তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন আদ-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাহিদ ইয়াসমিন।

নাহিদ ইয়াসমিন জানান, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। (১৭ অক্টোবর) তিনি কিছুটা সুস্থবোধ করলে সকালের দিকেরিলিজ নিয়ে বাসায় ফিরে যান তিনি। কিন্তু বাসায় ফেরার পরপরই আবার তাকে  হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রক্তশূন্যতা, ইউরিন সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছেন তিনি।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক স্যার লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। স্যারের অবস্থা মঙ্গলবার রাত থেকে খারাপের দিকে যায়। অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানে আছেন। পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল ছিল এবং তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর কলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে। তার বাল্যকাল কেটেছে কলকাতার চেতলায়। ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে তৎকালীন পাকিস্তানের নাগরিক হয়ে চলে আসেন ঢাকায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফৌজদারী আইনে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।

সফলতার অনেক গল্পই আছে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনি লড়াই বিপুল পরিচিতি এনে দেয় তাকে। ওয়ান ইলেভেনের সময় রাজনীতিবিদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তাদের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতেও দ্বিধা করেননি তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনা লগ্নে আইন প্রণয়নে তারও ভূমিকা ছিল। ১৯৯০ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রফিক-উল হক।

 

বিডি রয়টার্স/এইচ এ

 

 

Translate »