রবিবার | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল | ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

হাঁসই বদলে দিয়েছে তাদের জীবন

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর): হাঁস হামার (আমাদের) জীবন বদলে দিয়া (দিয়ে); হামার জীবনে স্বচ্ছলতা আনি (এসে) দিসে (দিয়েছে)। কিস্তির জ্বালা (যন্ত্রণা) ছিলো হামার; কিন্তু হাঁস পালি (পালনে), কিস্তি শোধ করি (করে) এখন সুখেশান্তিতে আছি হারা (আমরা) বুড়া-বুড়ি। এমনটাই বলছিলেন হাঁস পালনে সফল আবু মিয়া ও তাঁর আরেফা বেগম।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের মধ্যমপাড়া গ্রামের আবু মিয়া ও তাঁর স্ত্রী আরেফা বেগম। দুজনে মিলে করেছেন হাঁসের খামার। তাদের খামারে বর্তমানে ১৫০ এর বেশি হাঁস রয়েছে। ছিল কিস্তি; তা পরিশোধ করে সংসার চালিয়েও বেশ অর্থ সঞ্চয় করতে পারছেন তারা। অথচ এই সাফল্যের গল্পটা শুরু হয় মাত্র ১২ টা হাঁস থেকে।

আবু মিয়া ও আরেফা বেগমের দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে। ছেলে-মেয়ে সবাইকে বিয়ে দিয়ে যা জায়গা জমি ছিল সমানভাগে ভাগ করে দিয়েছেন। বর্তমানে আড়াই শতক ভিটামাটিতে পাকা ঘর করে, সেখানেই হাঁস পালন করে সুখে-শান্তিতে আছেন আবু মিয়া ও আরেফা বেগম।

এক দেড় বছর আগের কথা। ৭০০ টাকা ১২ টা হাঁসের ছানা কিনেন আবু মিয়া। সবশেষে টিকে যায় ১১ টা হাঁস। লালন-পালনে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই মিলে কাজ করতেন। সামান্য কিছু খরচেই হাঁসগুলো বড় হয়ে ডিম দিতে শুরু করে। প্রতিদিন প্রায় ১০-১২টা করে ডিম দিতো হাঁসগুলো।

সেগুলো কিছুটা বিক্রি এবং কিছুটা বাচ্চা ফোঁটানোর জন্য সংরক্ষণ করেন তারা। তারপর সেগুলো থেকে ৪০টি বাচ্চা ফোঁটে। সাথে আরো ১২ টা হাঁস কিনে নেন আবু মিয়া। এরপর থেকেই বাড়তে শুরু হয় হাঁসের সংখ্যা। শুরু হয় হাঁস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প। ধীরে ধীরে বেড়েছে হাঁসের সংখ্যা ও খামারের পরিধি।

আরেফা বেগম বলেন, আজ আমাদের বাড়ি খামারে পরিণত হয়েছে। মাত্র কয়েকটা হাঁস দিয়ে শুরু হয় এই পথচলা। এরপর স্বামীর প্রচেষ্টায় বাড়তে থাকে হাঁস পালনে আগ্রহ। পরিবারের কাজের পাশাপাশি তিনি নিজেও স্বামীর সাথে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন।

তিনি আরো বলেন, ছেলে-মেয়েদেরকে বিয়ে দিয়ে আলাদা করে দিয়েছেন। বর্তমানে তারাও অনেক সুখে শান্তিতে ঘর-সংসার করছেন। কিন্তু এক বছর পূর্বে মেয়ের স্বামী মারা যাওয়ায় এক মেয়ে তাদের সাথেই থাকছেন। তারা হাঁস পালন করেই দিব্যি সংসার চালাচ্ছেন এবং সঞ্চয় করতে পারছেন।

আবু মিয়া বলেন, ১১ টা হাঁস কিনে পালন শুরু করেন। তিনি দেখে ওই ১১টা হাঁস থেকেই প্রতিদিন ১০-১২টা করে ডিম পান। সে ডিমগুলো পরিবারের চাহিদা পূরণ করেও বেঁচে যেত। পরে তিনি ভাবলেন হাঁস পালন শুরু করি।

তারপর থেকেই স্ত্রীর সম্মতিতে এবং সহযোগিতায় হাঁসের ডিম ফুটিয়ে এবং আরো হাঁস কিনে শুরু করেন হাঁস পালন। তাদের খামাওে দেশি, পাতি ও অষ্ট্রলিয়ান প্রজাতির হাঁস রয়েছে। তারা স্বামী স্ত্রী দুজনে মিলেই নিয়মিত হাঁসের পরিচর্যা করেন।

এখন তাদের খামারে প্রতিদিন ১৫০-১৬০টা করে ডিম হয়। তিনি ওইডিম তিনদিন পরপর ফুলবাড়ী শহরে বিক্রি করেন এবং বেশ ভালো মূল্য পান। এখন তিনি নিজেও স্বাবলম্বী এবং তিনি অন্যকেও স্বাবলম্বী হতে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা প্রদান করেন।

আবু মিয়া আরো বলেন, হাঁসগুলোকে তিনি কোনপ্রকার ফিড খাওয়ান না। শুধুমাত্র জমির ধান ও ভাত খাওয়ান। তাদের খামারের হাঁসগুলো কার্তিক থেকে বৈশাখ এবং জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্রমাস পর্যন্ত ডিম পাড়ে। ফুলবাড়ী শহরের পশু ডাক্তার দেখিয়ে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ান।

 

বিডি রয়টার্স/এসএস

Translate »