৬ কোটি টাকায় মেরামতের চার মাসেই সংযোগ সড়ক ধ্বসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

জামালপুর: জামালপুরের ইসলামপুর-ঝগড়ারচর পাকা সড়কের মেরামতের চার মাসেই বন্দে আলী ব্রিজের সংযোগ সড়কের মাটি ধ্বসে গিয়েছে। একই সঙ্গে সড়কে অসংখ্য স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এক সপ্তাহ থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

৬ কোটিরও বেশি টাকায় সড়ক মেরামতের কাজ শেষ হতে না হতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়াসহ ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধ্বসে যোযাগযোগ বিছিন্ন হওয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চলাচলের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীসহ পথচারীদের। তাঁরা ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত সড়ক মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

এলজিইডির ইসলামপুর উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর হেড কোয়ার্টার থেকে ঝগড়ারচর বাজার পর্যন্ত পোনে ১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাকা সড়কটি সম্প্রতি মেরামত করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ২ লাখ, ৬৬ হাজার ৬৯৮ টাকা। সড়কের মেরামত কাজ সম্পন্ন করে এলই অ্যান্ড এম ডব্লিউ (জেভি) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সড়কটির মেরামত কাজের তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের জুন মাসে সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। গত মে মাসে কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ধসে যাওয়া সড়ক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঠিক করে দেওয়া হবে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, ইসলামপুর-ঝগড়ারচর বাজার সড়কে উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের টুংরাপাড়া মানিকনগর এলাকায় বন্দে আলী ব্রিজের পশ্চিম পাশে সংযোগ সড়কের মাটি ধসে গিয়েছে। চলার অনুপযোগী হওয়ায় সড়কে কোনো ধরণের যানবাহন চলাচল করছে না।

এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সড়কে ভাঙন ধরেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে সড়কে ছোট বড়ো অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির প্রথমাংশে ইসলামপুর হেড কোয়ার্টারস্থ বঙ্গবন্ধু মোড় এলাকায় অন্তত ৩০০ মিটার সড়কজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ইতিমধ্যে ইট-খোয়া উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে, বটচর, পোড়ারচর বাজার, চনন্দনপুর, কড়ইতলা মোল্লা বাজারসহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে। ফলে ইসলামপুরের সদরের সঙ্গে গাইবান্ধা ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের মানুষ ঘুরপথে যাতায়াত করছেন। এছাড়া পাশ্ববর্তী শেরপুর জেলা সদরসহ শ্রীবরদী, বকশীগঞ্জে উপজেলার মানুষের ইসলামপুরের সঙ্গে এ সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন রয়েছে।

এতে ইসলামপুর-ঝগড়ারচর-শেরপুর সদরে চালাচলকারী শত শত গাড়ি ও হাজার হাজার যাত্রী সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় আব্দুল করিম ফটিক, সুজন, আজগর, হুদা মিয়া বলেন, ‘সড়কটি মেরামত কাজ করা হয় কয়েক মাস আগে। কিন্তু নিম্নমানের মেরামতের কাজ করায় অল্প সময়ের মধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়াসহ বন্দেআলী ব্রিজের সংযোগ ধসে গেছে। এতে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মেম্বার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মোটা অংকের অর্থ ব্যয়ে সড়কটি মেরামত করা হলেও মাত্র কয়েক মাসেই চলাচলের অনুপযোগী হয়েছে। বন্দেআলী ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ায় কোনো ধরণের যানবাহনে চলাচল করা যাচ্ছে না।’

শেরপুরে ট্রাক চালক আবু সামা বলেন, ‘ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ায় ট্রাক নিয়ে ইসলামপুরে যাওয়া যায় না। মাত্র ৬ কিলোমিটারের পথ জামালপুর হয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার ঘুর পথে যেতে হয়।’

স্থানীয় অটোরিকশা চালক ফিরোজ, হাসমত, হাবিব, বেলাল মিয়া বলেন, ‘মেরামত কাজ শেষ হতে না হতেই এ সড়কে ইট-খোয়া উঠে যাওয়াসহ একাধিক স্থানে সড়কে ভাঙন ধরেছে। বন্দেআলী ব্রিজের সংযোগ সড়কও ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রযেছে।’

কৃষক মন্তাজ, আকবর, আফসার আলী সরদার, বলেন, ‘ব্রিজের সুযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় আমাদের কৃষিপণ্য হাট-বাজারে সময় মতো বিক্রি করতে পারছি না।’

ব্যবসায়ী জিপু আকন্দ, আব্দুস সামাদ, এনামুল, বলেন, ‘ব্রিজের সংযোগ সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।আমরা মালামাল আনানেওয়া করতে ভোগান্তিতে পড়ছি। ব্যবসাবাণিজ্যে ভাঁটা পড়েছে।’

উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল হক বলেন, ‘ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ার বিষয়ে অবগত আছি। যাতায়াত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

বিডি রয়টার্স/এসএস



আজকের সব খবর