পরিত্যক্ত ছাই দিয়ে রাস্তা তৈরি করলেন উপ-পরিচালক

হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: অটোরাইস মিলের পরিত্যক্ত ছাই দিয়ে অভিনব উপায়ে দীর্ঘ এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক মো. মোজদার হোসেন।

হর্টিকালচার সেন্টারের নালা ও জঙ্গলে এখন দৃশ্যমান এই মজবুত রাস্তা। এতে অবাক হয়েছেন অটোরাইস মিলের শ্রমিক, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা। পরিত্যক্ত ছাই দিয়ে রাস্তা তৈরি করে সকলের প্রশংসার দাবিদার হয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা।

হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক

দীর্ঘ ১০ মাস ধরে প্রায় ৩ হাজার ট্রাক্টর ছাইয়ের তৈরি রাস্তা এতোটাই মজবুত হয়েছে যে, ভারী যানবহন চলাচলেও সক্ষম এই রাস্তাটি। কোনরকম সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই ছাই দিয়ে তৈরি এই রাস্তা দিয়েই হর্টিকালচার সেন্টারে একটি পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন।

অথচ ১ বছর আগেও আয়তনে দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের প্রায় ১০ একর জায়গা জঙ্গলের মধ্যে ছিল। ঝোপঝাড় ও জঙ্গলের মধ্যে থাকা এসব জায়গায় ব্যবহার করতে পারতো না হর্টিকালচার কর্তৃপক্ষ।

হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক

এর সুযোগে স্থানীয় বখাটে ও মাদকসেবিদের আড্ডাখানায় পরিনত হয়েছিল জঙ্গলে ঢেকে ঢাকা বিশাল এলাকা। এই সুযোগে বিভিন্ন অপরাধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়ে পড়ে জঙ্গল এলাকা।

গতবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারে যোগদান করার পর বিশাল অরক্ষিত এলাকা উদ্ধারে উদ্যোগ নেন উপ-পরিচালক মো. মোজদার হোসেন। শুরু করেন জঙ্গল পরিষ্কার অভিযান। প্রায় ১০ একর জায়গা পরিষ্কার হলেও পানির নালা ও রাস্তা না থাকায় কাজে লাগানো যাচ্ছিল না।

হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক

উদ্বার হওয়া জমি ব্যবহার উপযোগী করতে হর্টিকালচার সেন্টারের সীমানা প্রাচীরের পাশ দিয়ে রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করেন কৃষিবিদ মো. মোজদার হোসেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখলেন, এরপর দীর্ঘদিন অপেক্ষাও করলেন। কিন্তু বরাদ্দ আসেনি কোন রাস্তা নির্মাণের জন্য।

৫-৬ ফুট গভীরতার নালা ভরাট করে দীর্ঘ এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করতে প্রয়োজন অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা। রাস্তা নির্মানের জন্য এতো টাকা বরাদ্দ পাওয়া যাবে না জেনেও চেষ্টা অব্যাহত রাখেন উপ-পরিচালক। হঠাৎ করে কৃষিবিদ মোজদার হোসেনের মাথায় আসে জেলার বিভিন্ন জায়গা ও রাস্তার ধারে পড়ে থাকা অটোরাইস মিলের অকেজো, অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত ছাইয়ের কথা। সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে ও অন্যান্য কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় গত ১০ মাস ধরে ছাই দিয়ে রাস্তা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর ১ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যাবে রাস্তা নির্মাণের কাজ।

হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক মো. মোজদার হোসেন বলেন,  আগামী এক মাসের মধ্যেই রাস্তার কাজ সম্পন্ন হবে। ছাই দিয়ে রাস্তা তৈরি করতে দেখে অনেকেই তাদের নিজ জমি বা বাড়ির আশেপাশে ছাই ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ করছে। হর্টিকালচার সেন্টারের রাস্তাটিকে ঘিরে রয়েছে নানা পরিকল্পনা। কাজ সম্পন্ন হলে একটু দূরে দূরে পুকুরের চারপাশ দিয়ে মোড় ও দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখ্য, হর্টিকালচার সেন্টারের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে গিয়ে সেখান থেকে এবছর উদ্বার করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম সূর্যডিম ও আমেরিকান রেড পালমার জাতের ৩টি আম গাছ।

বিডি রয়টার্স/এ.সি