আফগানিস্তানে অস্থিরতা থামছেই না

আফগানিস্তানে অস্থিরতা

তালেবানের শাসনামলে আবারো অস্থির হয়ে উঠছে আফগানিস্তান। পরপর দুই সপ্তাহে দু’টি শিয়া মসজিদে হামলার পর এ শঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। কান্দাহারে সবশেষ হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অর্ধশত ছাড়িয়েছে। আহত এখনো ৭০ জন।

এ অবস্থায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরাক, সিরিয়া থেকে জঙ্গিরা ঘাঁটি তৈরি করছে আফগানিস্তানে। তারা সেখান থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালাতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মস্কো সামরিক সহায়তা করতে প্রস্তুত বলেও জানান পুতিন।

ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কাঁচ। কান্দাহার শহরের সবচেয়ে বড় মসজিদ এটি। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় এখানে হামলায় ঝরেছে বহু প্রাণ, আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন অনেকে।

একজন বলেন, দুইজন ব্যক্তি মসজিদে আসেন। একজন ভেতরে প্রবেশ করেন, তিনিই আত্মঘাতী হামলা চালান। অন্যজন বাইরে থেকে নজরদারি চালান। তিনি গুলিও করেছেন বলে মনে হয়েছে।

দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে আফগানিস্তান। তালেবান গেলো ১৫ই আগস্ট তালেবান আসার পর ওই মাসেই দেশটি ছেড়ে যায় মার্কিনসহ বিদেশি সেনারা। পুরো দায়িত্ব যায় তালেবানের হাতে। আর এতেই আরো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো। বিশেষ করে আইএস-কে শাখা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। যারা গেলো সপ্তাহেও কুন্দুজে হামলা চালায়।

এক নাগরিক বলেন, আর কতদিন এভাবে রক্ত আর কান্নভরা জীবন-যাপন করতে হবে আমাদের? আমাদের অপরাধ কি? গত সপ্তাহে কুন্দুজে আমার ভাই মারা গেছেন। এই সপ্তাহে আমি মারা যেতে পারতাম। নামাজ পড়তে এসেও যদি মরতে হয়, তাহলে সেটা সত্যিই দুর্ভাগ্যের।

এ অবস্থায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক কোরে বলেছেন, তালেবান আসার পর ইরাক ও সিরিয়া থেকে সন্ত্রাসী ও আইএস জঙ্গিরা আফগানিস্তানে প্রবেশ করছে। রাশিয়া এই সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। পুতিন আরও বলেন, আইএস জঙ্গিরা প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতিও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

তারা আফগানিস্তান থেকে প্রতিবেশীদের ওপর সরাসরি হামলা চালাতে পারে। আফগানিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক বিশৃক্সখল অবস্থার সুযোগ নিয়ে, সন্ত্রাসীরা প্রতিবেশী দেশগুলোয় শরণার্থী সেজে ঢুকে থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিডি রয়টার্স/এ.সি



আজকের সব খবর