ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছে আফগানরা

ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করছে আফগানরা

কাবুলের চামান-ই-হোজোরি এলাকায় বিক্রির জন্য চারটি কার্পেট নিয়ে এসেছেন শুকরুল্লাহ। তবে তিনি একা নন, এখানে আরও অনেকেই বিক্রির জন্য অনেক জিনিসপত্র নিয়ে এসেছেন। এই তালিকায় রেফ্রিজারেটর, সোফা, ফ্যান, বালিশ, চাদর, কাঁটাচামচ, পর্দা, বিছানা, ম্যাট্রেস, রান্নার জিনিসপত্র এবং শেলফ। খবর আল জাজিরার।

যেখানে এই জিনিসপত্র সারি সারিভাবে রাখা হয়েছে, সেখানে একসময় সবুজ ঘাসের মাঠ ছিল। কিন্তু বহু বছরের অনাগ্রহ এবং খরায় এই এলাকা এখন ময়লা এবং ধূলাময় হয়ে উঠেছে। বিক্রির জন্য যেসব জিনিসপত্র এখানে নিয়ে এসেছেন কাবুলের বাসিন্দারা, তা ২০ বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন তারা। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে এগুলো বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

শুকরুল্লাহ বলেন, আমরা ৪৮ হাজার আফগানি (৫৫৬ ডলার) দিয়ে এই কার্পেটগুলো কিনেছি। কিন্তু এখন এগুলোর দাম উঠেছে মাত্র ৫ হাজার আফগানি (৫৮ ডলার)। গত ১৫ আগস্ট তালেবানরা কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে আফগানরা।

তিনি বলেন, ময়দা, চাল এবং তেল কেনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ জোগাড় করতে হবে আমাকে। শুকরুল্লাহ বলেন, গত বছর তার পরিবারের ৩৩ জন এক বাড়িতে উঠেছে।

করোনাভাইরাস মহামারি এবং খরার কারণে কৃষি নির্ভর অর্থনীতি সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি পালিয়ে যাওয়া এবং তালেবানদের ক্ষমতা দখলের আগে থেকেই ধুঁকছিল। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের মাঝামাঝি আফগানিস্তানের ৯৭ শতাংশের বেশি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে চলে যেতে পারে।

আফগানিস্তানের এই সংকট সহসাই দূর হবে না। চলতি সপ্তাহে আটলান্টিক কাউন্সিলে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর জেনারেল আজমল আহমাদি বলেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া না হলে দেশটির জিডিপি ১০-২০ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।

বিডি রয়টার্স/এ কে জি



আজকের সব খবর