কুলসুমের যাবজ্জীবন সাজার বদলি খাটছেন মিনু, মুক্তির নির্দেশ

কুলসুমের যাবজ্জীবন সাজার বদলি খাটছেন মিনু, মুক্তির নির্দেশ

ঢাকা: হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুলসুম আক্তারের বদলে কারাগারে থাকা মিনু আক্তারকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজের (চতুর্থ আদালত) প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধী কুলসুম আক্তারকে গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিরপরাধ মিনুর জেল খাটার ঘটনায় তিন আইনজীবী ও এক ক্লার্ককে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন।

বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে কুলসুম হিসেবে মিনু হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিলটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী ইকবাল হোসেন। অন্যদিকে গত ৩১ মার্চ এ ঘটনা উচ্চ আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে আদালতে মিনুর পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, বিচারিক তদন্তে চিহ্নিত হয়েছে যে ওই মামলায় মিনু আসামি ও দণ্ডিত নন। মিনুকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া উচিত। প্রকৃত অপরাধী কুলসুমকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ শুনানিতে অংশ নেন।

আদেশের পর শিশির মনির বলেন, হাইকোর্ট  মিনু আক্তারকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা মিনু আক্তার মুক্তি পাচ্ছেন।

জানা গেছে, মুঠোফোন নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ২০০৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পোশাককর্মী কোহিনুর বেগমকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর কারাগারে পাঠানো হয় কুলসুমকে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ (চতুর্থ আদালত) আদালত থেকে ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান কুলসুম। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর বিচারিক আদালত ওই মামলার রায় দেন। রায়ে কুলসুমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুম সেজে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে আসেন মিনু আক্তার। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে কুলসুম হিসেবে হাইকোর্টে আপিল করা হয়। এই আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। গত রোববার ও সোমবার শুনানি নিয়ে ওই আদেশ দেওয়া হয়।

মিনুর বক্তব্য অনুযায়ী, মর্জিনা নামের এক নারী তিন বছর আগে ডাল-চাল দেবেন বলে তাকে ঘর থেকে নিয়ে এসে জেলে ঢুকিয়ে দেন। তখন তিনি ভাসমান বস্তিঘরে ছিলেন। তার  স্বামী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। মর্জিনা বলেছিলেন, রোজার পর তাকে জেল থেকে বের করবেন। তিনি এখন বের হতে চান। কুলসুমকে তিনি চেনেন না। চট্টগ্রামের আদালত মূল রেজিস্ট্রারটি আদালতে দাখিল করতে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপারকে নির্দেশ দেন। রেজিস্ট্রারে থাকা আসামি কুলসুম আক্তারের ছবির (২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর) সঙ্গে মিনুর ছবির অমিল পাওয়া যায়।

এরপর গত ২৩ মার্চ চট্টগ্রামের আদালত জরুরি ভিত্তিতে ওই উপনথি হাইকোর্টে পাঠাতে আদেশ দেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ (চতুর্থ আদালত) বিচারক শরীফুল আলম ভূঁঞার পাঠানো চিঠিসহ ওই মামলা সংশ্লিষ্ট উপনথি গত ২৪ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়।

বিডি রয়টার্স/এ.সি