মানুষ কখন আত্মহত্যা করে?

মানুষ কখন আত্মহত্যা করে?

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রতি লাখে প্রায় ৩৯ জন মানুষ আত্মহত্যা করে। বহির্বিশ্বে ছেলেদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি থাকলেও বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি এবং তা সাধারণত অল্প বয়সীদের মধ্যে।

মানুষ নানা কারণে আত্মহত্যা করে তবে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা করে ডিপ্রেশন বা বিষন্নতার জন্য। ডিপ্রেশন একটি ভয়াবহ মানসিক ব্যাধি যা একজন মানুষকে সবার অজান্তে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। ডিপ্রেশনের ভয়াবহ দিকটি হচ্ছে আক্রান্ত রোগীরা নীরবে-নিভৃতে আত্মহত্যা করে বসেন। বিশ্বের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের আত্মহত্যার প্রধান কারন ডিপ্রেশন।

বাংলাদেশের শতকরা ১৮ থেকে ২০ ভাগ মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগছে। ডিপ্রেশন থেকে ডায়াবেটিস ও হাইপ্রেশার হয়ে থাকে। আবার উল্টোটাও হয়। ডিপ্রেশন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অনেক সময় বৃদ্ধ, শিশু, কিশোর এমনকি সন্তান সম্ভবা মা বা প্রসূতি মায়েদেরও ডিপ্রেশন হয়, এবং তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

ডিপ্রেশনের প্রধান কিছু লক্ষণ-
১.সারাক্ষণ মনমরা হয়ে থাকা
২.উৎসাহ উদ্যম হারিয়ে ফেলা
৩. ঘুম কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া
৪. রুচি কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া
৫. ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া
৬. কাজকর্মে শক্তি না পাওয়া
৭. মনোযোগ হারিয়ে ফেলা
৮. মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
৯. নিজেকে নিঃস্ব অপাঙক্তেয় মনে করা
১০. অযাচিত অপরাধবোধ
১১. আত্মহত্যার কথা বলা, ভাবা, চেষ্টা করা
সাইকিয়াট্রিস্টের তত্ত্বাবধানে থেকে নানান প্রকারের কার্যকরী এন্টিডিপ্রেসেন্ট ড্রাগ, সাইকোথেরাপি ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে একজন ডিপ্রেশনের রোগীকে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

আত্মহত্যা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

ইসলামী আইন ও বিধানে আত্মহত্যাকে হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার পরিণতিতে বলা হয়েছে, আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির আত্মহত্যা করার পদ্ধতি অনুযায়ী তার যন্ত্রণাকে অব্যাহত রাখা হবে।

এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, তোমরা তোমাদের নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর করুণাময়। (সূরা আন-নিসা)

রাসূলুল্লাহ সা: আত্মহত্যার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামেও তার সেই যন্ত্রণাকে অব্যাহত রাখা হবে। আর যে ব্যক্তি ধারালো কোনো কিছু দিয়ে আত্মহত্যা করবে, তার সেই যন্ত্রণাকেও জাহান্নামে অব্যাহত রাখা হবে। (সহিহ বুখারি)

অর্থাৎ রাসুল (সা:) বুঝাতে চেয়েছেন যে গলায় ফাঁস দেবে জাহান্নামে তাকে আগুনের রশিতে ঝুলানো হবে। যে যেভাবে আত্মহত্যা করবে জাহান্নামে আগুনোর অস্ত্র ধারা তার সে যন্ত্রনা অব্যাহত রাখা হবে।

যারা ইসলামী অনুশাসনে বিশ্বাসী এবং সে আলোকে নিজেদের জীবন পরিচালনা করেন তারা কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না। এছাড়া পৃথিবীর কোনো ধর্মই আত্মহত্যাকে সমর্থন করে না

বিডি রয়টার্স/এ কে জি



আজকের সব খবর