ঘুষ নিয়ে প্রকল্পের ঘর ‘বিক্রি’ করেছেন ইউএনও

ঘুষ নিয়ে প্রকল্পের ঘর 'বিক্রি' করেছেন ইউএনও!

ঢাকা: মুজিববর্ষে গৃহহীনদের দেওয়া ঘর বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রালয়ে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউএনও মো. আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রালয়ের উপসচিব আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে বরগুনার আমতলী উপজেলায় ৩৫০টি গৃহ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঘরগুলো উপজেলার অসহায়, গৃহহীন ও দুস্থ ভূমিহীন পরিবারগুলোকে যাচাই-বাছাই করে তাদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার কথা।

উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নে বরাদ্দ দেওয়া ১১০টি গৃহের মধ্যে উপজেলায় ওই প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান তার অফিস সহকারী এনামুল হক বাদশার মাধ্যমে ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন।

তার অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন যুবলীগের এক নেতা বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত করার দায়িত্ব দেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অফিস সহকারী এনামুল হক বাদশাকে অভিযুক্ত করে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

পরে অফিস সহকারী এনামুল হক বাদশাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়ার কিছুদিন পরে বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি টিম সরেজমিনে তদন্ত করতে আমতলী আসেন। তারাও গুলিশাখালীসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্মাণাধীন গৃহগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে নানা অনিয়ম ও নীতিমালাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায়।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামানের শাস্তিমূলক বদলি ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিডি রয়টার্স/এ.সি