আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস

আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস

সাহিত্য ডেস্ক: আজ বাইশে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮০তম প্রয়াণ দিবস। বাইশে শ্রাবণ বিশ্বব্যাপী রবীন্দ্র ভক্তদের কাছে মন খারাপের দিন। মহাকালের চেনাপথ ধরে প্রতিবছর বাইশে শ্রাবণ আসে। দিবসটি রবী ভক্তদের কাছে একটি শূন্য দিন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু দিবস। রবীন্দ্রনাথ তার কাব্য সাহিত্যের বিশাল একটি অংশে যে পরমার্থের সন্ধান করেছিলেন সেই পরমার্থের সাথে তিনি লীন হয়েছিলেন এদিন। রবীন্দ্র কাব্যে মৃত্যু এসেছে বিভিন্নভাবে। জীবদ্দশায় মৃত্যুকে তিনি জয় করেছেন বারবার। কাব্য কবিতায় মৃত্যু বন্দনা করেছেন তিনি এভাবে, ‘মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান’।

জীবনের শেষ নববর্ষের সময় রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তার সাধের শান্তিনিকেতনে। সেদিন তার কলমে রচিত হয়েছিল ‘সভ্যতার সংকট’ নামের অমূল্য লেখাটি। তারও ক’দিন পর ১৯৪১ সালেরই ১৩ মে লিখে রাখলেন, রোগশয্যায় শুয়েই ‘আমারই জন্মদিন মাঝে আমি হারা’। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলা একাডেমি অনলাইনে প্রবন্ধপাঠ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে যুক্ত হবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ও বেসরকারি টেলিভিশনগুলো এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা ও নাটক প্রচার করবে।

শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের শেষ দিনগুলোতে কখনও তিনি শয্যাশায়ী, কখনও মন্দের ভাল। শেষের দিকে ১৯৪১ সালের ২৫ জুলাই, শান্তিনিকেতনের আশ্রম বালক-বালিকাদের ভোরের সঙ্গীত অর্ঘ্য তিনি গ্রহণ করেন তার উদয়ন গৃহের পূবের জানলার কাছে বসে। উদয়নের প্রবেশদ্বার থেকে ছেলেমেয়েরা গেয়ে উঠেন কবিরই লেখা ‘এদিন আজি কোন ঘরে গো খুলে দিল দ্বার, আজি প্রাতে সূর্য ওঠা সফল হল আজ।

হারাধনের দশটি ছেলের মতো রবীন্দ্রনাথের হাতেও থাকে আর একটি মাত্র মেয়ে মীরা। মীরার বর নগেন্দ্রনাথ ছিলেন ঠাকুরবাড়ীর ঘরজামাই। এই ঘরে বংশ প্রদীপ জ্বেলে রেখেছিল একমাত্র পুত্র নীতিন্দ্রনাথ। তার বয়স যখন সবেমাত্র কুড়ি, অস্ফুট জীবনের কুঁড়ি যখন বিকশিত হবে রবীন্দ্রনাথ তাকে পাঠান বিলাতে। উন্নত ধরনের ছাপার কাজ ও প্রকাশন শিল্পের জ্ঞান অর্জন করে দেশে ফিরবে নীতিন্দ্রনাথ। এই প্রত্যাশাই ছিল কবির।

কিন্তু নিয়তির আর এক পরিহাস। বিলেতেই অসুস্থ হয়ে পড়লেন নীতিন্দ্রনাথ। ২১ শ্রাবণ, ৬ আগস্ট মৃত্যুর সমন পৌঁছে যায় নীতিন্দ্রনাথের শিয়রে। ডাক্তারদের নাগালের বাইরে চলে যেতে থাকেন তিনি। পরদিন বাইশে শ্রাবণ ১৩৩৯ ইংরেজি ৭ আগস্ট ১৯৩২ মৃত্যুই জিতে যায়। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নীতিন্দ্রনাথ। আর প্রিয় দৌহিত্রের মৃত্যুদিবস বাইশে শ্রাবণকে ধারণ করে কবিও বিদায় নেন আর এক বাইশে শ্রাবণে।

বিডি রয়টার্স/এ কে জি



আজকের সব খবর