বন্যায় ফুলছড়িতে ৩৫০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি

গাইবান্ধা: ব্রহ্মপুত্র নদের পানি উপচে এবারের বন্যায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ফসলহানি হয়েছে ছয় ইউনিয়নে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব জমিতে রয়েছে ধান, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। এই নিয়ে হাজারো কৃষক চরম বিপাকে পড়েছে। অবশ্য বন্যার পানি কমতে থাকায় ক্ষয়ক্ষতি কম হবে বলে কৃষি বিভাগ মনে করছে।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিই মূলত চর। ব্রহ্মপুত্র নদের ধারে বা বেষ্টনীর ওই এলাকাতেই আমন সহ অন্যান্য শাকসবজি বেশি হয়। এসব ইউনিয়নে বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে ফজলুপুর, ফুলছড়ি, এরেন্ডাবাড়ী, উড়িয়া ও গজারিয়া। এছাড়া উদাখালী ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যায় তলিয়ে গেছে রোপা আমন ও শাকসবজিসহ বেশ কিছু ফসলের ক্ষেত। এখনো চরাঞ্চলের ফসলি ক্ষেত ডুবে আছে। এতে অনেক কৃষক পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়নি।

কৃষকরা জানিয়েছে, বন্যার পানির নিচে তলিয়ে আছে ফসলের জমি। ইতিমধ্যে ধানগাছ পচতে শুরু করেছে। তবে পানি কমতে থাকায় তাদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। এদিকে ফসল হারিয়ে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা নেমে এসেছে। বেশির ভাগ কৃষক এনজিও, ব্যাংক অথবা চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণে টাকা এনে ধানের আবাদ করেছে। এখন বন্যায় ফসলহানিতে তারা দুই চোখে অন্ধকার দেখছে।

উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের গাবগাছি গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেন (৪৮) বলেন, ৪ বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করেছিলাম। পানিতে ডুবে সব নষ্ট হয়ে গেছে।

ওই গ্রামের আব্দুর রহিম (৫২) বলেন, ৭ বিঘা জমিতে আমন ধান ও বেশ কিছু শাক-সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধারদেনায় আবাদ করে এখন বিপাকে পড়েছি। তিনি বলেন, গাবগাছি গ্রামের প্রায় সব কৃষক কমবেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অনেকের গাঞ্জিয়া ধানের বীজতলা, বেগুনের বীজতলা, করলা, কাঁকরোল, পটোল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

ওই ইউনিয়নের খোলাবাড়ি গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৩২) বলেন, আমার ১৬ বিঘার জমির আমন ধান পানির নিচে তলাইয়া গেছে। এতে করে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এসব জমিতে গাঞ্জিয়া ধানের আবাদ করার বীজতলাও নষ্ট হয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু হাসান মানিক বলেন, বন্যা হবেনা ভেবে চরাঞ্চলের মানুষ আমন সহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু প্রচুর বৃষ্টি ও পাহাড়ির ঢলের কারণে বন্যায় এসব ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খোলাবাড়ি গ্রামের এক কৃষকের ৯ বিঘা জমিতে বন্যা সহিষ্ণু বিনা-১৭ ধানের প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছিল। যা ১১দিন থেকে পানিতে ডুবে আছে। ১৪দিন পর্যন্ত ডুবে থাকলেও এ ধান নষ্ট হওয়ার কথা না। বন্যার পানি সরে গেলে ওই ধানের পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

 

বিডি রয়টার্স/এসএস



আজকের সব খবর
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত