টুপির আদলে নির্মিত হচ্ছে বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম

টুপির আদলে নির্মিত হচ্ছে বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম

উদ্বোধনের অপেক্ষায় ২০২২ কাতার ফুটবল বিশ্বকাপের ষষ্ঠ স্টেডিয়াম আল থুমামা। আগামী ২২ অক্টোবর আমির কাপ ফাইনাল খেলার মধ্যে দিয়ে উদ্বোধন হবে সাদা গাহফিয়া টুপির আদলে নির্মিত এ স্টেডিয়াম। ২০২২ সালের কাতার ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা মাঠে বসে দেখার অপেক্ষায় স্থানীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

পারস্য উপ-সাগরের তীরে অবস্থিত শহর দোহা। একটা সময় জীবনের চিহ্নও ছিল না যে অঞ্চলে, তা আজ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সেরা শিল্পাঞ্চল। নানা রঙ আর বৈচিত্র্যে ভরপুর এক নগর, কাতারের এই রাজধানী।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২ এর স্বাগতিক মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এই দেশটি। নিজেদের কৃষ্টি আর সংস্কৃতিকে মানব সভ্যতার সামনে তুলে ধরতে নানা রঙে তারা সাজিয়েছে নিজেদের শহরটিকে। যার জন্য অর্থ খরচ হয়েছে পানির মতো। ব্রাজিল আর রাশিয়া বিশ্বকাপের তুলনায় যার পরিমাণ ১৫ গুণ বেশি। কেবলমাত্র স্টেডিয়ামগুলো বানানোর বাজেটই ছিলো এক হাজার কোটি ইউএস ডলার। বাংলা টাকায় যার পরিমাণ ৮৫ হাজার কোটি টাকা।

স্টেডিয়ামগুলো এক একটির থিম এক একরকম। তবে সবাইকে অবাক করেছে দোহার রাশ আবু আবুদ স্টেডিয়ামের নকশা এবং নির্মাণশৈলী। দোহা বন্দরের উপকণ্ঠে ৯৭৪টি শিপিং কন্টেইনার দিয়ে তৈরি হয়েছে নান্দনিক এই স্থাপনা।

যদিও বিশ্বকাপের পরপরই ভেঙে ফেলা হবে স্টেডিয়ামটিকে। কি অবাক হলেন? হ্যাঁ, এটাই বাস্তবতা। রাশ আবু আবুদ স্টেডিয়াম, পৃথিবীর প্রথম স্থাপনা যা বানানোই হয়েছে ভেঙে ফেলার জন্য।

শিপিং কন্টেইনার দিয়ে বাহ্যিক অবকাঠামো তৈরি হলেও এর কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকবে স্টিলের ওপর। বসানো হবে রিমুভেবল সিট। ম্যাচ শেষে যা খুলে ফেলা যাবে অবলীলায়। টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ স্থাপনা এক নতুন মাইলফলকের সৃষ্টি করবে মধ্যপ্রাচ্যে।

পরিবেশবিদ ড. তালার সাহসুভারোলু বলেন, ‌’কাতার বিশ্বকাপ এটা আমাদের জন্য একটা নতুন ধারণা। পুরো কাঠামোটাই বানানো হচ্ছে রিসাইকেল্ড যন্ত্রপাতি দিয়ে। বিশ্বকাপ শেষে পুরোটাই ভেঙে ফেলা হবে। তবে, কোনোকিছুই নষ্ট করা হবে না। টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশের কথা ভাবলে এটা দুর্দান্ত একটা কাজ।‌’

ভেঙে ফেলা হবে বলে অবশ্য কারুকাজে কোন কমতি নেই স্টেডিয়ামটিতে। দোহার পোর্ট সিটির ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে ধারণ করেই তৈরি হয়েছে অ্যারেনাটি। প্রতিটি কন্টেইনার ভিন্ন ভিন্ন রঙের হওয়ায়, বাচ্চাদের বিল্ডিং ব্লক খেলনার মতো দেখাবে বাইরে থেকে। আর খুব সহজেই, পরে এগুলোকে ব্যবহার করা যাবে নতুন কোন স্থাপনার কাজে।

ড. তালার সাহসুভারোলু আরও জানান, ‌’কাতার বিশ্বকাপ এতো বড় পরিসরে এ ধরণের কাজ আমরা আগে করিনি। ছোটখাটো যে কয়েকটা হয়েছে, সেটার অভিজ্ঞতা এখানে আমাদের কাজে লেগেছে। পুরো স্থাপনাটিকেই আমরা অন্য কোথাও কাজে লাগাতে পারবো। সে পরিকল্পনাও আমরা করে ফেলেছি।‌ ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে রাশ আবু আবুদ স্টেডিয়ামে।

বিডি রয়টার্স/এ কে জি



আজকের সব খবর